শুক্রবার, ১লা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:১০

আগামী সিটি নির্বাচনে বিতর্কিতদের প্রার্থী করে ঝুঁকি নেবে না আওয়ামী লীগ

আগামী সিটি নির্বাচনে বিতর্কিতদের প্রার্থী করে ঝুঁকি নেবে না আওয়ামী লীগ

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্কঃ মেয়াদ শেষ হওয়ায় জাতীয় নির্বাচনের আগেই দেশের পাঁচ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী জুনে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। পর্যায়ক্রমে খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটির ভোট হবে।জাতীয় নির্বাচনের আগের এই নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। তাই প্রার্থিতা নিয়ে দলটি ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

 

 

সিটি নির্বাচনে ‘কোনো ধরনের বিতর্কিত অথবা জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য এবং অতীতে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না’—এমনটা জানিয়েছেন দলটির একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বিতর্ক ছাড়া নৌকাকে বিজয়ী করাই তাঁদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সর্বাত্মক কাজ এখন থেকেই শুরু করতে দলটির স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

লক্ষ্য, উৎসবমুখর পরিবেশ ও কেন্দ্রে ভোটারের সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করা।আইন অনুযায়ী, কোনো সিটির মেয়াদ ধরা হয় প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট হয়। এ হিসাবে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হবে ১১ মার্চ থেকে। নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। খুলনা ও রাজশাহী সিটির ক্ষণগণনা শুরু হবে ১৩ এপ্রিল।

 

 

১০ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা আছে। বরিশাল সিটি ভোটের ক্ষণগণনা শুরু হবে ১৪ মে, ভোট করতে হবে ১৩ নভেম্বরের মধ্যে। সিলেট সিটির পরবর্তী নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হবে ৬ মে, ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে ৬ নভেম্বরের মধ্যে।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় গাজীপুরের (সাময়িক বরখাস্ত) মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তিনি মাফ পেলেও মনোনয়ন নিয়ে দোটানা আছে। জাহাঙ্গীর আলমকে আবারও নৌকা দেওয়া হতে পারে, এমন আলোচনা এরই মধ্যে গাজীপুরে শুরু হয়েছে।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির এক নেতা বলেন, জাহাঙ্গীর আলম দলের প্রভাবশালী এক নেতার অনুগত। ওই নেতার কারণে তাঁকে সাধারণ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। এখন তিনি আবার জাহাঙ্গীর আলমকে মেয়র পদে প্রার্থী করতে তৎপরতা শুরু করেছেন। জাহাঙ্গীর গাজীপুরের জন্য অপরিহার্য, এমনটা দলের শীর্ষ নেতাদের বোঝাতে চেষ্টা করছেন তিনি।জাহাঙ্গীর আলম ছাড়াও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের একাধিক নেতা মাঠে রয়েছেন। তাঁরা হলেন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আজমত উল্লা খান, ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল মনোনয়ন চান।রাজশাহীর বর্তমান মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে চান।

 

 

তবে রাজশাহীর দৃশ্যমান উন্নয়ন করায় আবারও তিনি মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী হতে পারেন বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। এদিকে রাজশাহীতে লিটনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।গত ২৯ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জনসভা করে আওয়ামী লীগ। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত ওই জনসভার মঞ্চে জায়গা দেওয়া হয়নি আসাদুজ্জামান আসাদকে। আসাদকে না দেখে শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। পরে তাঁর নির্দেশে আসাদকে মঞ্চে ডাকা হয়। মেয়র পদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা হতে পারে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা।খুলনায় মেয়র প্রার্থী হিসেবে তালুকদার আবদুল খালেকের নাম গত বছরের জুলাই মাসেই ঘোষণা করেন স্থানীয় নেতারা। খালেককে আবারও বিজয়ী করতে কাজ শুরু করতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল।

 

 

নেতা-কর্মীরা তাঁর পক্ষে কাজও শুরু করেছেন। তালুকদার খালেক ছাড়া প্রকাশ্যে কারও নাম আলোচনায় না থাকায় এখানে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে মনে করা হচ্ছে।পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পরে সিলেটে তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দুটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান বিজয়ী হয়েছিলেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন কামরান। এবার আওয়ামী লীগ এটি উদ্ধারে মরিয়া।কামরানের জীবদ্দশায় অনেকে প্রার্থী হতে চাইলেও দলের মনোনয়ন পাননি। কামরানের মৃত্যুর পর দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন অনেকে। এর মধ্যে আলোচনায় আছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ টি এম হাসান জেবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের ছেলে আরমান আহমদ শিপলু ও সহসভাপতি আবদুল খালিক।

 

 

আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী প্রায় দেড় মাস ধরে সিলেটে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিলেট-২ আসনে প্রার্থী হতে তৎপর থাকলেও দলীয় মনোনয়ন জোটেনি। তবে বসে থাকেননি তিনি। জাতীয় সংসদ থেকে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে ছুটে এসেছেন দেশে। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে সরব থাকতে দেখা গেছে তাঁকে।বরিশালে বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ আবারও মনোনয়ন পেতে পারেন। কেন্দ্র থেকে ইতিমধ্যে সেই সংকেত দেওয়া হয়েছে।

 

 

এ ছাড়া সেখানে তাঁর বিকল্প হিসেবে কাউকে প্রকাশ্যে মনোনয়ন চাইতেও দেখা যায়নি।সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী ও মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘মানুষ যাকে ভালো জানে এবং ভালোবাসে এই ধরনের নেতাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হবে।’

 

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All rights reserved © 2018 DailykhoborBarisal24.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net