রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:১৮

হরতাল-অবরোধের অস্থিরতায় পর্যটক শূন্য কুয়াকাটা 

হরতাল-অবরোধের অস্থিরতায় পর্যটক শূন্য কুয়াকাটা 

dynamic-sidebar

এসএম আলমাস, কুয়াকাটা : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পর্যটন শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকলেও বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতায় তা সাফল্য বয়ে আনতে পারছে না। দেশে কোন ধরনের সমস্যা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে শুরুতেই ধাক্কা লাগে পর্যটন নগরী গুলোতে। আর তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপি-জামায়েতের অবরোধকে কেন্দ্র করে পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে পটুয়াখালীর সমুদ্র কন্যা খ্যাত কুয়াকাটা।
যার ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে সকল কর্মকাণ্ড। অলস সময় পার করেছেন পর্যটনশিল্পের সাথে যুক্ত সকল ব্যবসায়ীরা। করোনার ধাক্কা কেটে যাওয়ার পর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরতে শুরু করছিল। পদ্মাসেতুকে আর্শীবাদ মনে করছিল ব্যবসায়ীরা। সেটায় এখন পুরোদমে ভাটা লেগেছে। পুরো সৈকত নিরবতা। পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীদের মাঝে বিরাজ করছে হতাশা। সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন পর্যটন শিল্পের সাথে থাকা হাজারো ব্যবসায়ী ।
চলতি মাসের ২৮ অক্টোবর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটা সৈকতে তেমন কোন পর্যটকদের আনাগোনা ছিলোনা। এর আগের সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবেও কুয়াকাটায় তেমন কোন পর্যটক দেখা যায়নি । সপ্তাহের শুরুতে হরতাল ডাকার পরে একদিন বিরতির পরে আবার শুরু হয়েছে টানা তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি। ফলে পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। মৌসুমের শুরুতে এমন খারাপ পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেননা তারা ।
সৈকতের ওয়াটার বাইক ব্যাবসায়ী লিটন খান বলেন, আমার ২২জন কর্মচারী। ডেইলি হিসেবে আমার ২৫ হাজার টাকা ক্ষতি হচ্ছে। গত কয়েকদিনে আমার লক্ষটাকা নেই। এভাবে চলতে থাকলে সামনের দিনগুলো কিভাবে চলবে জানিনা। করোনার সময় জমানো টাকা সব শেষ। এখন ঋনের বোঝা টানছি। পর্যটক আসতে না পারলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।
হোটেল স্কাই ভিউয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচাল মো. আলমগীর খান বলেন, গত পাঁচ দিনে চার রুম গেষ্ট ছিলো আমার হোটেলে। বর্তমানে কোন বুকিং আসছেনা ফোনে এবং আজকে এখন পর্যন্ত এক রুম গেষ্টও নেই আমাদের।
 ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা(টোয়াক) এর প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, পর্যটকরা যখন কোন দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে যান তখন সবার আগে তারা যাতায়াত ব্যবস্থার উপরে গুরুত্ব দেন। বর্তমানে দেশের যে পরিস্থিতি এতে কোন পর্যটকরাই বেড়ানোর উদ্দেশ্যে বের হবেন না। তার প্রভাব কুয়াকাটায়ও পড়েছে।
হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মোতালেব শরীফ বলেন, বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলে মানুষ ঘর থেকে বের হয়না। গত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় পর্যটকরা মুখ ফিরেয়ে নিয়েছে। এ সংকট দূর না হলে আমরা পথে বসে যাব।
ট্যুরিষ্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, কুয়াকাটায় বর্তমানে তেমন বেশি পর্যটকের দেখা মিলছে না। তবে এই পরিস্থিতিতেও যে পর্যটকরা কুয়াকাটা আসবে তাদের সার্বিক নিরাপত্তার প্রস্তুত রয়েছে কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশ।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All rights reserved © 2018 DailykhoborBarisal24.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net